শুক্রবার, ৬ মে, ২০১১

কিছু শৈশব


এবার যুদ্ধে যাবো বলে-
এক বাক্স দেয়াশলাই আর
এক চিমটি লবন কিনে আনলাম
লবনের ঘ্রাণ শুকে মনে হলো
আমার চিরপরিচিত সেই শৈশব
বারুদের গন্ধ জমাট করে করে
যাকে আমি আগুনের ফুলকি বানিয়েছি

সন্তু, এবার রাত নামলেই
মাছ ধরতে চলে যাবো
নদীর যে ধারটায় বাসন্তীদের
বাড়ির হ্যাজাক লাইটের আলো পড়ে,
সেইখানে তুই বসে থাকিস;
আমি তোর জন্য পিপঁড়ের ডিম,
ছোট কেচোঁর ছানা আর
চুরি করে ভাত নিয়ে যাবো
দেখবি শেষ রাতে বাসন্তীর
হাসি কেমন মায়াময়
ছিপে তোর ঠিক এক বিরাট মাছ খেলে যাবে

উন্মাদ বাশিঁর টানে-
একবার ঘোড়দৌড়ের বাজি ধরেছিলাম;
ফলাফল শূণ্য এবং রিক্ততার ঝুলি উড়িয়ে
যেই ডুব দিয়েছি সমুদ্র-জলে
তখনই চেনা শৈশব এসে পথ আটকালো
সন্তু, আমার সেই শৈশবের ছবি হাতে
পুড়িয়ে দিচ্ছে অগুণিত শিশিরের ঘ্রাণ
নিকট সান্নিধ্যে যাকে প্রতিদিন বুলিয়েছি
তৃষ্ণার্ত ঠোটেঁ
আমাদের পাগলামী দেখে,
নরেণ দাদু হেসে বলত-
শিশিরের জল খেতে নেই, তাকে ঠোটেঁ তোলে রাখ;
পৃথিবীর সব যাদু জিতে তবে দিগ্বিজয়ী হবি

শুক্রবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১০

নিজস্ব আগুন, মোহ ও সন্ধ্যাকাল

লিখে রাখি-
পথ ও পথের সীমান্তেই লুকিয়ে থাকে
যত সব আজগুবি কথার বাহার।

খুব রংচটা, বাসি ও বিবস্ত্র
এই সব বিষন্নতার দিনে তাই দেখ
কত সহজেই উড়িয়ে দিচ্ছি
আমার নিজস্ব আগুন, মোহ ও সন্ধ্যাকাল।

ক্রমশই দূরে সরে যাচ্ছি
সীমান্তবর্তী আকাশ ছুতেঁ তবু আরো কত পথ।

ক্রমশই যে নদী ছুয়েঁ গেছে তীর-
তার পাড়ে বসে ভাবছি,
আমিও এক বানভাসা বুড়ো
ভাঙ্গনে হারিয়েছি ঘর, সংসার
ও প্রিয় সন্ততির মুখ।

ক্রমশই এ শহর হয়ে উঠছে
এক ভাড়াটে গ্যারেজ।
আর আমি, তুমি ও আমরা
এক একজন কমন স্টুপিড ক্রিয়েচার,
কত সহজেই দ্যাখ হয়ে উঠছি
এক একজন বিখ্যাত পঙ্গু গাড়ির ড্রাইভার।

বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০০৯

হাসাহাসির সেইসব দিনে কোনো রেস্তরাঁ ছিল না,
ইস্কান্দার মিয়ার চায়ের দোকানে বসে আমরা
সিগ্রেট ফুঁকছি আর দেখছি হঠাৎ ভাড়াটে মাস্তানদের
হাতে চিপ্সের প্যাকেট, সাথে হুইস্কি উল্লাস। আমরা
ভীত হই, ক্রমান্বয়ে ডুবে যাই আর ভাবি, শহরও কি
ভিন্ন তার বিভিন্ন দালান, কানাগলি আর মার্সিডিজ
বেঞ্জ নিয়ে। আমরা কলেজ পড়ুয়ারা হাঁটি আর
হাঁটতেই থাকি, আর এই অজপাড়াগাঁয়ে
সাড়ে তিনতলা বাড়িতে বসে এসির হাওয়া খায় নেপাল সাহা।


তার বাসার কাজের মেয়েটিও পুকুরঘাটে এসে
আমাদের বিষণ্ণ করে তুলে!