কিছু শৈশব
১
এবার যুদ্ধে যাবো বলে-
এক বাক্স দেয়াশলাই আর
এক চিমটি লবন কিনে আনলাম।
লবনের ঘ্রাণ শুকে মনে হলো
এ আমার চিরপরিচিত সেই শৈশব
বারুদের গন্ধ জমাট করে করে
যাকে আমি আগুনের ফুলকি বানিয়েছি।
২
সন্তু, এবার রাত নামলেই
মাছ ধরতে চলে যাবো।
নদীর যে ধারটায় বাসন্তীদের
বাড়ির হ্যাজাক লাইটের আলো পড়ে,
সেইখানে তুই বসে থাকিস;
আমি তোর জন্য পিপঁড়ের ডিম,
ছোট কেচোঁর ছানা আর
চুরি করে ভাত নিয়ে যাবো।
দেখবি শেষ রাতে বাসন্তীর
হাসি কেমন মায়াময়।
ছিপে তোর ঠিক এক বিরাট মাছ খেলে যাবে।
৩
উন্মাদ বাশিঁর টানে-
একবার ঘোড়দৌড়ের বাজি ধরেছিলাম;
ফলাফল শূণ্য এবং রিক্ততার ঝুলি উড়িয়ে
যেই ডুব দিয়েছি সমুদ্র-জলে
তখনই চেনা শৈশব এসে পথ আটকালো
সন্তু, আমার সেই শৈশবের ছবি হাতে
পুড়িয়ে দিচ্ছে অগুণিত শিশিরের ঘ্রাণ
নিকট সান্নিধ্যে যাকে প্রতিদিন বুলিয়েছি
তৃষ্ণার্ত ঠোটেঁ।
আমাদের পাগলামী দেখে,
নরেণ দাদু হেসে বলত-
‘শিশিরের জল খেতে নেই, তাকে ঠোটেঁ তোলে রাখ;
পৃথিবীর সব যাদু জিতে তবে দিগ্বিজয়ী হবি’।